০৭ নভেম্বর, ২০২১

সবকিছুরই দাম বাড়ছে কমেছে শুধু মানুষের জীবনের দাম

সবকিছুরই দাম বাড়ছে কমেছে শুধু মানুষের জীবনের দাম


সবকিছুরই দাম বাড়ছে কিন্তু কমছে শুধু মানুষের জীবনের দাম। কিভাবে? পন্য সামগ্রীর দাম কি মানুষের জীবনের দাম নির্ধারণ করে, তা না হলে কেন পন্যের দাম বেড়ে গেলে জীবনের দাম কমবে? আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর পেতে সম্পূর্ণ লেখাটি পড়ুন।

চাকরি যেনো সোনার হরিণ, বেকারত্বের চেয়ে চাকরির সংখ্যা কম হওয়ায় চাকরি পাওয়া যেনো দরিদ্র সাধারণ মানুষের কাছে দুষ্প্রাপ্য বস্তু। কারণ তা ধনী ও প্রভাবশালীদের কাছে বিক্রি হওয়া সৌখিন বা বিলাসীতার বস্তু। ঘুস ছাড়া চাকরি যেনো কল্পনার বাইরে। বিক্রি হওয়ার বিষয়টা তো বুঝলেন এখন সৌখিন বা বিলাসীতা, ঘুষ দিয়ে চাকরি নেওয়ার পর সে নিজের বা ঐ পদের দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে কতোটা অবগত, বা কতোটা দায়িত্ব পালন করেন তা আমরা সবাই জানি।

এইবার আসি ব্যাবসায়, আমরা যারা চাকরি না পেয়ে ব্যাবসার পথে পা বাড়াই তাদের প্রতিটি পদে পদে আইনি এবং বেআইনি ভাবে চাদাবাজির স্বীকার হতে হয়। যার কারণে বেশিরভাগ সময় লাভতো দূরের কথা মূলধনই গায়েব হয়ে যায়।

এবার চাকরি ব্যাবসা বাদ দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ব্যাপারে কথা বলি। দিনের পর দিন আমাদের দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবুও সবাই চুপ, কিন্তু হঠাৎ করে গত শুক্রবার ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় মাঠে নেমেছেন বাস, ট্রাক, লঞ্চ ইত্যাদির মালিক শ্রমিক সমিতি। তাদের দাবি ভাড়া বাড়াতে হবে। তাদের দাবি পূরন হলো গাড়িভাড়া বৃদ্ধি করা হলো। যাইহোক জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়বে এটাই স্বাভাবিক।

এখন তাহলে জানা যাক ডিজেলের দাম কেনো বাড়লো, এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ বলেন ডিজেলের দাম প্রতিবেশী দেশের চেয়ে কম তাই ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। আমাদের দেশে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পেয়ে লিটার ৮০ টাকা আর কলকাতায় ১২১ টাকা। তাহলে কেনো ঢাকা চট্টগ্রামের দূরত্ব  ২৬৫ কিলোমিটার। এসি বাসের ভাড়া ১২০০ টাকা। (আরো কম বেশীও আছে, যে যেমন পারে!) আর কলকাতা থেকে পূরী সড়ক পথে ৫০৫ কিলোমিটার। এসি ভলভো বাসের ভাড়া ৭০০ রুপি। বাংলাদেশী টাকায় ৮০৯ টাকা। এই বিষটি কি জনগণ বোঝেনা, আর বুঝলে কেন প্রতিবাদ করেনা?

ঠিক এখনি জানতে পারবেন কেনো মানুষ প্রতিবাদ করেনা আর কিভাবে পণ্যদ্রব্যের দাম বাড়ে এবং মানুষের জীবনের দাম কমছে আমাদের দেশে।
আচ্ছা বলুনতো অসঙ্গতিপূর্ণ ভাবে পণ্যদ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় জনগণ যদি প্রতিবাদ এবং আন্দোলন করে তাহলে কি হবে? আমরা কেউ ভবিষ্যতের কথা জানিনা তবে অতীতের পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে ধারণা করতে পারি। আমরা অতীতে দেখেছি অন্যায়ের প্রতিবাদ করায়

  • হেফাজত ইসলামের ওপর গুলি চালিয়ে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল এবং সমস্ত বিষয়টি গোপন করা হয়েছিল।
  • কিছুদিন আগে কোরআন অবমাননার প্রতিবাদ করায় মুসলমানদের উপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।
  • তাছাড়াও যারা প্রতিবাদ করে তাদেরকে রাজাকার বলে ঘোষণা করে হয়রানি এবং গুম খুন করা হয়।

তাহলে এখানে কি দাড়ায় জনগণ তার প্রতিবাদের অধিকার হারিয়েছে কারন তাদের জীবনের মূল্য অনেক কমে গেছে। তার জন্যই খেয়াল খুশিমতো দ্রব্যমূল্যের দাম ক্রমাগত বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে। 

এখানে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনের মূল্য কম, এদের একে অপরের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। তবে এই দুইটি বিষয় বাংলাদেশের শাসন, বিচার, অনিয়ম দুর্নীতির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

শেয়ার করুন

0 coment rios: