অর্থনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অর্থনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২৫ নভেম্বর, ২০২১

উন্নয়ন নয় আমরা আমাদের অধিকার চাই

উন্নয়ন নয় আমরা আমাদের অধিকার চাই

উন্নয়ন নয় আমরা আমাদের অধিকার চাই, কারন সরকারের উন্নয়ন জনগণের কল্যানের জন্য নয়।

উন্নয়ন বলতে আমরা সাধারণ মানুষ যা বুঝি নতুনত্বের ছোয়া, সহজ জীবন যাপন ব্যাবস্থা। আমাদের দেশে যে উন্নয়ন হচ্ছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে দেখার বিষয় উন্নয়ন টা কার, দেশের, জনগণের নাকি সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের। আমরা সবসময় যে উন্নয়নের বাণী শুনি, তা আমাদের জীবনে কি পরিবর্তন এনেছে তার প্রভাব আলোচনা করি।


উল্লেখ যোগ্য উন্নয়ন ও তার প্রভাব


বর্তমান সরকারের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন গুলো হলোঃ
  • পদ্মা সেতু, 
  • পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, 
  • বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, 
  • রেল সংযোগ এবং 
  • পায়রা সমুদ্র বন্দর।

প্রভাবঃ পদ্মা সেতু যোগাযোগের উন্নত মাধ্যমে। কিন্তু যোগাযোগ সকলের পেশা হতে পারে না। আমরা সাধারণ মানুষ একস্থান থেকে অন্যস্থানে গেলে আমরা কোনো টাকা পাইনা। আমাদের টাকা খরচ করতে হয়। আমাদের আয়ের উৎস না থাকলে খরচ করবো কিভাবে। বলা হতে পারে যে শ্রম বিনিয়োগ বা ব্যাবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু আইনের অপব্যবহারের ফলে শ্রম বিনিয়োগ, ব্যাবসা করছে জনগণ লাভবান হচ্ছে চাদাবাজ, দূর্নীতিবাজ নেতাকর্মী এবং অসৎ প্রশাসন।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র যা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলা করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে বাংলাদেশের শিল্প কারখানা প্রসার বা বিপ্লব ঘটাবে। এই উন্নয়নের সুফল সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ কিভাবে পাবে, তাদের অধিকার যদি প্রতিষ্ঠা না করা হয়। আর বিদ্যুৎ বিলের ব্যাপার যারা আগে ২০০ টাকা বিল দিতো তাদের এখন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট আমাদের দেশের তথ্য প্রযুক্তির নিরাপত্তা দিবে, জনমত প্রকাশের সুযোগ করে দিবে যা দেশের উন্নয়ন বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু তথ্য প্রযুক্তি আইনের জন্য মানুষ স্বাধীন মতামত ও সত্য প্রকাশ করতে পারেনা। দালালি, তোষামোদ করার কাজে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। আর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করার পর মোবাইল বিল ২৫ পয়সা থেকে ৩ টাকা মিনিট।

পায়রা সমুদ্র বন্দর দেশের পর্যটন, ব্যাবসা বানিজ্য অর্থনীতির উন্নয়ন, এবং আমাদের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি করবে। পর্যটনের মতো বিলাসিতার জন্য পেটে ভাত আর মনে সুখ থাকা জরুরি। ব্যাবসা বানিজ্যে মাথাপিছু আয় বাড়লেও বাড়ছেনা জনগণের ধনসম্পদ ও সুযোগ সুবিধা। জনগণের বাড়ছে শুধু ঋণ।

অ উল্লেখিত উন্নয়ন ও তার ব্যাখ্যা


বর্তমান সরকারের অ উল্লেখিত উন্নয়ন গুলো হলোঃ 
  • অটো নির্বাচন পদ্ধতি, 
  • সন্ত্রাসের মাধ্যমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, 
  • সন্ত্রাসী প্রশাসন, 
  • বেগম পাড়া সহ উন্নত দেশে ব্যাবসা বাণিজ্য প্রতিষ্ঠা।

ব্যাখ্যাঃ অটো নির্বাচন পদ্ধতি হলো বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়া, এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীকে বসিয়ে দিয়ে দেশের মানুষের মূল্যবান সময়ের অপচয় রোধ করা এবং জন দুর্ভোগ সৃষ্টি না করা।

সন্ত্রাসের মাধ্যমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি টি হলো দেশে হত্যা, গুমের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে দেশের জনসংখ্যা কমিয়ে, জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি করা।

সন্ত্রাসী প্রশাসন বা বৈধ সন্ত্রাস এরা সরকারের নির্দেশ গুম খুন করে, এবং গুম খুনের সহায়তা করে। বিভিন্ন সময় জনগণের উপর অন্যায় অত্যাচার চালিয়ে অপকর্মের স্বীকারোক্তি আদায় করেন। এবং প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করে মুক্তভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ করে দেন।

সরকারের নেতাকর্মীরা, চাদাবাজি, হত্যা, ধর্ষণ, গুম এধরনের সমাজসেবামূলক কাজ করে প্রচুর পরিমাণে অর্থ উপার্জন করছেন। এবং হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে, সেখানে বেগম পাড়া সহ বড় বড় ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন যা বিশ্বদরবারে আমাদের দেশের মুখ উজ্জ্বল করে।

সাধারণত মানুষের অবস্থা

 
ভোটাধিকার হারিয়ে জনগণ এখন ভাড়াটিয়া, তাই তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করে তাদের সম্পদ লুটপাট করা, মালিক পক্ষ বা সরকারি দলের অধিকার। সন্ত্রাস বাহিনীর অন্যায় অত্যাচারের স্বীকার হয়ে সবকিছু হারিয়ে আইনের কাছে আশ্রয় চাইলে, সন্ত্রাসী প্রশাসন উল্টো মামলা দিয়ে স্থায়ীভাবে জেলখানায় পাঠিয়ে দেয়। কখনো ফাসিতে ঝুলে মরতে হয়, কখনো চার দেয়ালের মধ্যে অবহেলা, নির্মম অত্যাচার সহ্য করে, মিথ্যা অপবাদ নিয়ে ধুকে ধুকে মরতে হয়।

বর্তমান সরকারের উন্নয়ন জনগণের নাগালের বাইরে। কারন এই উন্নয়ন জনগণের কল্যানের জন্য নয়, বরং জনগণকে চুষে নিয়ে, বা জনগণের অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে ্এ উন্নয়ন শোষকের বিলাসীতার উন্নয়ন। তাই আসুন আ্মরা সাধারন মানুষ দল, মত নির্বিশেষে আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য একসাথে এক কন্ঠে বলি “উন্নয়ন নয় আমরা আমাদের অধিকার চাই”

১৭ নভেম্বর, ২০২১

যে ভাবে আমরা নিজেদের অজান্তেই বড়লোক হচ্ছি

যে ভাবে আমরা নিজেদের অজান্তেই বড়লোক হচ্ছি

যে ভাবে আমরা নিজেদের অজান্তেই বড়লোক হচ্ছি


অর্থনীতি শাস্ত্র একটু বেশিই জটিল, এখানে বিভিন্ন পরিভাষা এবং নিয়ম নীতি রয়েছে। যা একজন অর্থনীতিবিদ সবচেয়ে ভালো বোঝেন। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরাও কম নয়, সাদা কালো উপার্যনের অগাধ অর্থ হিসাব করতে করতে তারাও এখন অর্থনীতিবিদ। কজন অর্থনীতিবিদ নিজের টাকার হিসাব করে এবং সেগুলো লোকচক্ষুর আড়ালে নিরাপদে রাখতে পারে।

এখন অর্থনীতি এবং অর্থনীতিবিদের সংগা পরিবর্তন হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশে যারা জনগনের ধন সম্পদ লুটেপুটে যারা ধনসম্পদের পাহাড় তৈরি করেছেন তারাই বড় অর্থনীতিবিদ। তাদের কাছে অর্থনীতির উন্নয়ন জনগনের কল্পনাতীত। অর্থনীতির এ উন্নয়ন আজ দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের অর্থ। সেখানে গড়ে উঠছে বিলাশবহুল হোটেল এবং বড় বড় ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান।

সামগ্রীক বিষয়টি বিবেচনা করা হলে বাংলাদেশর অর্থনীতির উন্নয়ন এবং প্রসার ঘটেছে। যার প্রভাব আমাদের মাথাপিছু আয়েব মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। মাথাপিছু আয় হলো আমাদের মোট আয়ের গড়, যা আমাদের অর্থনীতির উন্নয়ন প্রকাশ করলেও জনগন তার ফল তখনি ভোগ করবে যখন অর্থনৈতিক বৈষম্য রোধ এবং বিদেশে টাকা পাচার বন্ধ করা সম্ভব হবে।

অর্থনীতিবিদ দের মতে অর্থনীতিঃ কোনো নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছর) কোনো দেশের জনগণ মোট যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য বা সেবা উৎপাদন করে, তার অর্থমূল্যকে মোট জাতীয় উৎপাদন বা জিএনপি বলে। জাতীয় উৎপাদনের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে বসবাসকারী ও কর্মরত বিদেশি ব্যক্তি ও সংস্থার উৎপাদন বা আয় অন্তর্ভুক্ত হবে না। তবে বিদেশে বসবাসকারী ও কর্মরত দেশি নাগরিক, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বা আয় অন্তর্ভুক্ত হবে।

রাজনীতিবিদ পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের মতেঃ আমাদের মাথাপিছু আয় বড়েছে। আড়াই হাজার ডলার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। শনৈ শনৈ বৃদ্ধি পাচ্ছে, রাত পোহালেই আয় বাড়ছে বাংলাদেশের, আমরা টেরই পাচ্ছি না। আমরা অজান্তেই বড়লোক হয়ে যাচ্ছি। তিনি সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘তবে বড়লোকের বড়লোকি কিছু রোগও হয়, সেই রোগ থেকে যেন আমরা মুক্ত থাকি।

সাধারণত মানুষ বড়ো লোক হয়ে পেটে ক্ষুধা নিয়ে ধনসম্পদ খুজছেন। এটা গরীবের বড়লোকি রোগ। আর কেউ কেউ টাকার এবং ক্ষমতার দাপটে কুলাঙ্গারের মতো যা খুশি করছে এবং গাজাখুরি বক্তব্য দিচ্ছে। এটা হলো কিছু কিছু রাজনীতিবিদ দের উন্নয়ন।

আমাদের দেশে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে, এটি একটি স্বংয়সম্পূর্ন দেশ। দেশের সম্পদ এবং জনশক্তির সঠিক ব্যবহার আমাদের সত্যিকারের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বাদ দিতে পারে। কিন্তু কিছু অসৎ দুর্নীতিবাজ অমানুষ এই সম্পদ নিজেরা লুটপাট করে খাচ্ছে বাকিটা বিদেশে পাচার করছে। জনগণকে তাদের দূর দশার কথা বলার সুযোগ না দিয়ে জনগণকে নামে বড়লোক বানিয়ে দিচ্ছেন। আর কেউ যদি দূর দশার কথা জানিয়ে সরকারের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে, তাহলে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে অমানবিক নির্যাতন এবং শাস্তি প্রদান করছেন।

কেউ নিরবে অধ্যাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে, কেউ প্রতিবাদ করে খুন হচ্ছেন, কেউবা নিজে নিজেই আত্মহত্যা করছেন। কিন্তু এসব দেখার কেউ নেই। রাজনীতিবিদগণ জনগণের টাকায় পেট ভরিয়ে মনের সুখে উন্নয়নের গান গাচ্ছেন আর বিদেশে টাকা পাচার করছেন।

যাইহোক সামান্য ইউপি নির্বাচনে বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রচুর পরিমাণে আসন দখল করার পরেও ৭০-৮০ জনের বেশি মানুষের জীবন যাওয়া সেটা সাধারণ ঝগড়া ঝাটি। বড়ো মনমানসিকতা এবং উন্নয়নশীল দেশ ছাড়া এটা কখনো হতে পারে না।

০৯ নভেম্বর, ২০২১

আলেম ওলামারা ধর্ম নিয়ে ব্যাবসা করে, না কি মানুষের অবৈধ উপার্জন রোধ করে

আলেম ওলামারা ধর্ম নিয়ে ব্যাবসা করে, না কি মানুষের অবৈধ উপার্জন রোধ করে

আলেম ওলামারা ধর্ম নিয়ে ব্যাবসা করে, না কি মানুষের অবৈধ উপার্জন রোধ করে?



কিছু দুর্নীতি গ্রস্ত অমানুষ, আলেম ওলামাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে যে আলেম ওলামারা টুপি পড়ে দাড়ি রেখে ধর্ম নিয়ে ব্যাবসা করে। এখানে নবীর সুন্নতকে অবমাননা করা হয়েছে। এবং দাড়ি রাখতে এবং টুপি পড়তে মুসলমানদের নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। আর ধর্ম ব্যাবসার কথা বলে ইসলাম ধর্মের চর্চা এবং ইসলামকে বিলুপ্ত করার ষড়যন্ত্র এবং আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ধর্ম ব্যাবসা বলতে তারা মনে করেন মুসলমানদের কাছ থেকে দুই, এক টাকা করে সংগ্রহ করে নামাজ পড়ানোর জন্য ইমামকে হাদিয়া প্রদান করা। সোজা কথায় নামাজ পড়িয়ে ইমাম সাহেব যে উপার্জন করে। মোক্তব, মাদ্রাসা, ইয়াতিম খানা এবং সকল মুসলমানদের দ্বীনের শিক্ষা দিয়ে আলেম ওলামারা যে উপার্জন করেন তাই ধর্ম ব্যাবসা।

আসলেই কি তাই? স্কুল কলেজ বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষক রা কি বেতন নেয় না? অবশ্যই নেয়, তাহলে কি তারা শিক্ষা ব্যাবসায়ী? বিচারপতি আইনের ধারা অনুযায়ী বিচার করে তার পারিশ্রমিক কি নেন না? অবশ্যই নেন, তাহলে কি তিনি আইন ব্যবসায়ী? আর আপনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গনতন্ত্রের মিথ্যা বুলি এরিয়ে জনগণের টাকায় খাচ্ছেন, এবং বিদেশে টাকা পাচার করছেন, আপনি নিশ্চয়ই গনতন্ত্র ব্যাবসায়ী।

আলেম ওলামারা যাকাত ফেতরা, দান ছদগা করতে বলে এইটাই কি তাদের অপরাধ। আচ্ছা কোন আলেম বিদেশে দুই হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন তার কি কোনো নজির আছে? কিন্তু আপনাদের আওয়ামীলীগের একজন পাতি নেতারো দুই হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করার নজির আছে।

এতো কিছু থাকতে আওয়ামীলীগ কেন ইসলাম ধর্মের এবং আলেম ওলামাদের পিছনে পড়ে থাকে তার কারণ হলো, ইসলাম সাম্যতার কথা বলে, ধনী-গরীব, সবল দূর্বল সকলের অধিকার নিশ্চিত করে। আর আলেম ওলামা ঘুস, চাদাবাজি, জুলুম কারীদের কোরআন হাদিসের আলোকে ভয়াবহ দুরসংবাদ প্রদান করেন। দ্বীনের পথে ফিরে আসার আহবান জানান। এতে তাদের উপার্জন কমে যায়, এবং পদে পদে বাধাগ্রস্ত হন। তাই তারা আলেম ওলামা এবং মুসলমানদের তাদের পথের কাঁটা এবং সবচেয়ে বড় শত্রু মনে করেন।

আপনারা (আওয়ামীলীগ/ইসলাম বিরোধীরা) নিজেরা যেমন, সবাইকে তাই মনে করেন। যার কুফল শান্তিপ্রিয় মুসলমানদের ভোগ করতে হয়। জনগণ তা বুঝে।

০৭ নভেম্বর, ২০২১

সবকিছুরই দাম বাড়ছে কমেছে শুধু মানুষের জীবনের দাম

সবকিছুরই দাম বাড়ছে কমেছে শুধু মানুষের জীবনের দাম

সবকিছুরই দাম বাড়ছে কমেছে শুধু মানুষের জীবনের দাম


সবকিছুরই দাম বাড়ছে কিন্তু কমছে শুধু মানুষের জীবনের দাম। কিভাবে? পন্য সামগ্রীর দাম কি মানুষের জীবনের দাম নির্ধারণ করে, তা না হলে কেন পন্যের দাম বেড়ে গেলে জীবনের দাম কমবে? আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর পেতে সম্পূর্ণ লেখাটি পড়ুন।

চাকরি যেনো সোনার হরিণ, বেকারত্বের চেয়ে চাকরির সংখ্যা কম হওয়ায় চাকরি পাওয়া যেনো দরিদ্র সাধারণ মানুষের কাছে দুষ্প্রাপ্য বস্তু। কারণ তা ধনী ও প্রভাবশালীদের কাছে বিক্রি হওয়া সৌখিন বা বিলাসীতার বস্তু। ঘুস ছাড়া চাকরি যেনো কল্পনার বাইরে। বিক্রি হওয়ার বিষয়টা তো বুঝলেন এখন সৌখিন বা বিলাসীতা, ঘুষ দিয়ে চাকরি নেওয়ার পর সে নিজের বা ঐ পদের দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে কতোটা অবগত, বা কতোটা দায়িত্ব পালন করেন তা আমরা সবাই জানি।

এইবার আসি ব্যাবসায়, আমরা যারা চাকরি না পেয়ে ব্যাবসার পথে পা বাড়াই তাদের প্রতিটি পদে পদে আইনি এবং বেআইনি ভাবে চাদাবাজির স্বীকার হতে হয়। যার কারণে বেশিরভাগ সময় লাভতো দূরের কথা মূলধনই গায়েব হয়ে যায়।

এবার চাকরি ব্যাবসা বাদ দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ব্যাপারে কথা বলি। দিনের পর দিন আমাদের দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবুও সবাই চুপ, কিন্তু হঠাৎ করে গত শুক্রবার ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় মাঠে নেমেছেন বাস, ট্রাক, লঞ্চ ইত্যাদির মালিক শ্রমিক সমিতি। তাদের দাবি ভাড়া বাড়াতে হবে। তাদের দাবি পূরন হলো গাড়িভাড়া বৃদ্ধি করা হলো। যাইহোক জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়বে এটাই স্বাভাবিক।

এখন তাহলে জানা যাক ডিজেলের দাম কেনো বাড়লো, এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ বলেন ডিজেলের দাম প্রতিবেশী দেশের চেয়ে কম তাই ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। আমাদের দেশে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পেয়ে লিটার ৮০ টাকা আর কলকাতায় ১২১ টাকা। তাহলে কেনো ঢাকা চট্টগ্রামের দূরত্ব  ২৬৫ কিলোমিটার। এসি বাসের ভাড়া ১২০০ টাকা। (আরো কম বেশীও আছে, যে যেমন পারে!) আর কলকাতা থেকে পূরী সড়ক পথে ৫০৫ কিলোমিটার। এসি ভলভো বাসের ভাড়া ৭০০ রুপি। বাংলাদেশী টাকায় ৮০৯ টাকা। এই বিষটি কি জনগণ বোঝেনা, আর বুঝলে কেন প্রতিবাদ করেনা?

ঠিক এখনি জানতে পারবেন কেনো মানুষ প্রতিবাদ করেনা আর কিভাবে পণ্যদ্রব্যের দাম বাড়ে এবং মানুষের জীবনের দাম কমছে আমাদের দেশে।
আচ্ছা বলুনতো অসঙ্গতিপূর্ণ ভাবে পণ্যদ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় জনগণ যদি প্রতিবাদ এবং আন্দোলন করে তাহলে কি হবে? আমরা কেউ ভবিষ্যতের কথা জানিনা তবে অতীতের পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে ধারণা করতে পারি। আমরা অতীতে দেখেছি অন্যায়ের প্রতিবাদ করায়

  • হেফাজত ইসলামের ওপর গুলি চালিয়ে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল এবং সমস্ত বিষয়টি গোপন করা হয়েছিল।
  • কিছুদিন আগে কোরআন অবমাননার প্রতিবাদ করায় মুসলমানদের উপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।
  • তাছাড়াও যারা প্রতিবাদ করে তাদেরকে রাজাকার বলে ঘোষণা করে হয়রানি এবং গুম খুন করা হয়।

তাহলে এখানে কি দাড়ায় জনগণ তার প্রতিবাদের অধিকার হারিয়েছে কারন তাদের জীবনের মূল্য অনেক কমে গেছে। তার জন্যই খেয়াল খুশিমতো দ্রব্যমূল্যের দাম ক্রমাগত বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে। 

এখানে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনের মূল্য কম, এদের একে অপরের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। তবে এই দুইটি বিষয় বাংলাদেশের শাসন, বিচার, অনিয়ম দুর্নীতির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।